কুয়াকাটা ভ্রমণ

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে “সাগর-কন্যা “ খ্যাত মনোরম একটি ভ্রমণ স্বর্গ কুয়াকাটা। ভ্রমণ বিলাসী ও পর্যটকদের আনন্দ ভ্রমণের ও অবকাশ সময় কাটানোর অন্যতম মনোরম ও মন-মুগ্ধ কর জায়গা হল সাগর কন্যা কুয়াকাটা। শুধু দেশে নয়, কুয়াকাটার পরিচিতি এখন বিশ্বজুড়ে। বেলাভূমির একই স্থানে দাড়িয়ে বারো ঘণ্টার ব্যবধানে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বিড়ল মনোরম দৃশ্য দেখার সমুদ্র সৈকত। নজরকাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে কুয়াকাটার রয়েছে আলাদা সুখ্যাতি। দেশের সর্বদক্ষিণে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে সাগরপারের এ জনপদ কুয়াকাটা। প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এক কিলোমিটার প্রস্থ সৈকতের সর্বত্র রয়েছে সুন্দরের সমাহার। চোখ ধাঁধানো সবকিছু। রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, যার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে অসংখ্য লেক। সৈকত লাগোয়া নারিকেল বীথি। রয়েছে জাতীয় উদ্যান অধীন ইকোপার্ক ও আন্ধার মানিক মোহনার উল্টোদিকের ফাতরার বিশাল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। রয়েছে শুটকি পল্লী,লাল কাঁকড়ার চর। অদূরেই রয়েছে পর্যটন-পল্লী গঙ্গামতি সৈকত। পরিচ্ছন্নতার জন্য কুয়াকাটার রয়েছে আলাদা পরিচিতি। সুন্দরের স্বকীয়তায় কুয়াকাটাকে বলা হয় সাগর-কন্যা। প্রতিদিন শত শত পর্যটক-দর্শনার্থীর পদচারণয় মুখরিত থাকছে কুয়াকাটা। বেলাভূমির সর্বত্র হৈ-হুল্লোড় চলে আগতদের। সাগরের হিম শীতল পানির স্পর্শে শরীরে শিহরণ জাগায় আগতদের। নির্মল আনন্দ আর গভীর প্রশান্তি পেতে মানুষ প্রকৃতির সান্নিধ্য খুঁজে বেড়ায়। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে, ক্লান্তি ও মনের জড়তা ঘুচিয়ে দেয়। সেই প্রশান্তির জায়গা হচ্ছে কুয়াকাটা। জীবনের আমুদে সময় কাটাতে ও মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করতে কুয়াকাটায় ভ্রমণের বিকল্প নেই।

প্রায় সোয়া দুই শ’ বছর আগে আরাকান থেকে বিতাড়িত দেড় শ’ রাখাইন পরিবার নৌকায় ভাসতে ভাসতে কুয়াকাটা সৈকতে এসে নোঙ্গর করে। শ্বাপদ-সঙ্কুলের এ জনপদে গড়ে তোলেন বসতি। পান করার নিরাপদ পানি ছিল না। কুয়া কেটে (খনন) মিঠা, নিরাপদ পানি সংগ্রহ করেন। ওই কুয়ার নামানুসারেই আজকের কুয়াকাটা। কুয়াকাটার অবিচ্ছেদ্য অংশ এখানকার আদি বাসিন্দা রাখাইন সম্প্রদায়। এদের ভিন্ন আদলের বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা অবলোকনের সুযোগ রয়েছে। চোখে পড়বে এদের তাঁতসহ উল বুনন কার্যক্রম। সুযোগ মেলে অন্যতম সৌন্দর্য ইন্দো-চীনের আদলে রাখাইনদের শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার দর্শনের। এছাড়া কুয়াকাটার অদূরে মিশ্রিপাড়ায় রয়েছে সীমা বৌদ্ধবিহার। এ-বিহারের মধ্যে গৌতম বুদ্ধের ধ্যানমগ্ন ১৩৭ মন ওজনের অষ্টধাতু নির্মিত বিশাল আকৃতির বৌদ্ধমূর্তি শোভা পাচ্ছে। রাখাইনদের দাবি এশিয়ার বৃহত্তম বৌদ্ধমুর্তি এটি। নিজের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করতে কুয়াকাটায় ভ্রমণের বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত দৃশ্যপট অবলোকনের পাশাপাশি দেশের প্রাচীন পুরাকীর্তি বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও প্রাচীন কুয়া স্বচক্ষে দেখার সুযোগ রয়েছে। রূপসী কুয়াকাটার নৈসর্গিক রূপ অন্যান্য সৈকতের চেয়ে বহুলাংশে আকর্ষণীয়। জেলেরা এখানে সার দিনরাত মাছ ধরে। ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালী করা জীবন-জীবিকার যুদ্ধ অবলোকন করা যায়। কুয়াকাটার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহারের সামনেই সংরক্ষিত রয়েছে কুয়ার পাশেই নতুন সংযোজিত দুই শ’ বছরের প্রাচীন নৌকা। এসব নিদর্শন আর সুন্দরের সমাহার শুধু স্বচক্ষে দেখলেই হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করা যায়।

কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান সমূহ-

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন সৈকত বলা যায়। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ জায়গা থেকেই সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। সৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গামতির বাঁক থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। আর সূর্যাস্ত দেখার উত্তম জায়গা হল কুয়াকাটার পশ্চিম সৈকত। এ সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় আঠারো কিলোমিটার আর প্রস্থে প্রায় তিন কিলোমিটার। পুরো সৈকত ঘেঁষেই রয়েছে বিস্তীর্ণ নারিকেল বাগান। সমুদ্র সৈকতের পূর্ব প্রান্তে রয়েছে গঙ্গামতির খাল। এর পরেই গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের একেবারে পশ্চিম পাশে আছে জেলে পল্লী। মাছের শুটকি তৈরির বিশাল একটি এলাকাও আছে এখানে। এছাড়া পুরো সৈকত জুড়েই সারা বছর দেখা মিলবে মাছ শিকারিদের বিভিন্ন কৌশলে মাছ ধরার দৃশ্য। সমুদ্র দিনের বেলা সাধারণত আশে পাশের শব্দের কারনে গর্জন শোনা যায় না। সমুদ্রের যে একটা ভয়ংকর রূপ আছে তা বোঝা যায় রাতে। সৈকতে বেড ভাড়া পাওয়া যায়। নিরাপত্তা জনিত ভয় কম। গভির রাতে থাকতে হলে টুরিস্ট পুলিশের সহয়তা ও অনুমতি নিতে হবে। রাতের সমুদ্রের গর্জন ভয়ংকর। সৈকতের কাছাকাছি কোন হোটেলে থাকলে গর্জন হোটেল থেকেও শোনা যেতে পারে।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত

কুয়াকাটায় সূর্যোদয় দেখার জন্য ঝাউ বনে যাওয়াই ভালো। সেখান থেকেই সূর্যোদয় ভালো দেখা যায়, সমুদ্রের পেট চিড়ে কিভাবে সূর্য উঠে তা দেখার জন্য অনেক লোকই আগে চলে যাবে সেখানে। সকাল বেলা হেটে হেটে ঝাউ বনে যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট। আর ভ্যানে বা মোটরসাইকেলে গেলে অল্প সময়ে যাওয়া যায়। সেখানে সারি সারি ঝাউ গাছ নিঃসন্দেহে সুন্দর। এই বনটি সরকার বনায়ন পরিকল্পনার অধীনে তৈরি করেছে। সূর্যোদয়ের চেয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্যটা বোধহয় বেশি চমৎকার। সূর্যটা সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার সময় রংয়ের পরিবর্তনটা আপনি স্পষ্টই দেখাতে পাবেন। কুয়াকাটা সৈকতের যেকোন প্রান্ত থেকে সূর্যাস্ত দেখা যায়। তবে দৃষ্টিনন্দন সূর্যাস্ত দেখার জন্য পর্যটকরা ভিড় জমান কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিম প্রান্ত ‘লেবুর বনে’।

কুয়াকাটার কুয়া

কুয়াকাটা নামকরণের উৎস প্রাচীন সেই কুয়াটি এখনো আছে। তবে অদূরদর্শী কুরুচিকর সংস্কারের ফলে এর সৌন্দর্য এবং প্রাচীন আদল নষ্ট হয়ে গেছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কাছেই রাখাইন আদিবাসীদের বাসস্থল কেরানি পাড়ার শুরুতেই বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে রয়েছে এই কুয়াটি।

শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার

কুয়াকাটার প্রাচীন কুয়াটির সামনেই রয়েছে প্রাচীন একটি বৌদ্ধ মন্দির, নাম শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ মন্দির। প্রাচীন এই মন্দিরে রয়েছে প্রায় সাঁইত্রিশ মন ওজনের অষ্ট ধাতুর তৈরি ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মূর্তি।

মেরিন জাদুঘর

বাংলাদেশের প্রথম মেরিন জাদুঘর কুয়াকাটায় অবস্থিত। এখানে সংরক্ষিত আছে ২০০ বছরের পুরাতন নৌকা। কুয়াকাটার ঝাউবন পয়েন্টের বেলাভূমিতে একটি বিশাল নৌকা জেগে ওঠে। স্থানীয়রা এটাকে সোনার নৌকা বলত। পুরো নৌকাটা সোনালি পাত দিয়ে মোড়ানো ছিল। কথিত আছে প্রায় ২০০ বছর আগে একদল বণিক অনেকগুলো বড় নৌকা নিয়ে এসে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। নৌকাটিকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রায় ৬ কি.মি. অস্থায়ী রেললাইন তৈরি করে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে নিয়ে আসা হয়। শ্রী-মঙ্গল বৌদ্ধবিহারের পাশে জাদুঘরটি স্থাপন করা হয়।

রাখাইন পাড়া

সীমা বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে থেকেই শুরু হয়েছে রাখাইন আদিবাসীদের পল্লী কেরানি পাড়া। এখানকার রাখাইন নারীদের প্রধান কাজ কাপড় বুনন। এদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়।

মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পূর্বে রাখাইন আদিবাসীদের আরেকটি বাসস্থল মিশ্রিপাড়ায় রয়েছে আরেকটি বৌদ্ধ মন্দির। এ মন্দিরেই রয়েছে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মূর্তি ও পবিত্র কুয়া। এখান থেকে কিছু দূরে আমখোলা পাড়ায় রয়েছে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় রাখাইন বসতি।

ইকোপার্ক ও জাতীয় উদ্যান

সমুদ্র সৈকতের একেবারে কোল ঘেঁষে প্রায় ২০০ একর জায়গায় ষাটের দশকে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা নারিকেল কুঞ্জ, ঝাউ বন, গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন , পশ্চিমদিকের ফাতরার বন ও মহিপুরের রেঞ্জের বনাঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠেছে ইকোপার্ক ও জাতীয় উদ্যান । সমুদ্রের অব্যাহত ও অপ্রতিরোধ্য ভাঙ্গনে ইতিমধ্যেই নারিকেল কুঞ্জ অনেক খানিই বিলীন হয়েছে ।
কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান লেক
এর পূর্ব দিকে বনবিভাগ কর্তৃক ১৫ হেক্টর বেলাভূমিতে তৈরি করা হয়েছে
মনোলোভা ঝাউবন । মানব সৃষ্ট হলেও গোধূলি বেলায় সমুদ্র সৈকতে দাড়িয়ে ও বিশেষ করে পূর্ণ চন্দ্রালোকিত জ্যোৎস্না রাতে যখন বেলাভূমি থেকে নারিকেল বীথি ও ঝাউ বাগানের দিকে দৃষ্টি নিপতিত হয় তখন নিতান্ত বেরসিক দর্শকের কাছেও তা এক অমলিন স্বর্গীয় আবেদন সৃষ্টি করে । আর দিনে ঝাউবনের ভিতর দিয়ে যখন সমুদ্রের নির্মল লোনা বাতাস বয়ে যায় তখন বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ এক নিরবচ্ছিন্ন ঐক্যতান করে শ্রোতার কানে আনে অনির্বচনীয় মাদকতা।

গঙ্গামতি চর

সমুদ্রে নেমে বামে গেলেই পাবেন গঙ্গামাতির চর। মোটর সাইকেল নিয়েই চলে যেতে পারবেন সেখানে। তবে আপনাকে আর আপনার বাহনটিকে একবার মাত্র নৌকায় করে নদী পার হতে হবে। অপূর্ব এই চরটি দেখে আপনার সব ক্লান্তি দুর হয়ে যাবে। বিশেষ করে বালুকাময় সৈকতের উপর হাজার হাজার লাল কাকড়ার বিচরণ আপনাকে মোহিত করবে।মুহূর্তেই আপনার মনে হবে যেন প্রকৃতি আপনার জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। এখানে কেওড়া , গেওয়া , ছৈলা , খৈয়া , ইত্যাদি হরেক রকমের গাছগাছালি ছাড়াও আছে বুনো-শুয়োর , বন মোরগ , আর বানরের কিচির মিচির শব্দ । এখানে ভ্রমণ শেষে আপন ইচ্ছা করলে নদী পার না হয়ে মোটর সাইকেল নিয়ে ভিতরের রাস্তা দিয়ে পৌঁছে যেতে পারেন আপনার হোটেলে। তাতে উভয় রাস্তাই আপনার দেখা হয়ে যাবে।

লাল কাঁকড়ার দ্বীপ

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পূর্বদিকে গঙ্গামতির খাল(ক্যানেল) পার হলেই কাঁকড়ার দ্বীপ। এ জায়গায় আছে লাল কাঁকড়ার বসবাস। নির্জনতা পেলে এ জায়গার সৈকত লাল করে বেড়ায় কাঁকড়ার দল। ভ্রমণ মৌসুমে (অক্টোবর-মার্চ) কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে স্পিড বোটে যাওয়া যায় ক্র্যাব আইল্যান্ডে। লাল কাকড়ার দ্বীপের শেষ প্রান্তে রামনাবাদ চ্যানেল (পায়রা বন্দরের প্রবেশ মুখ)।

লেবুর বন

কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিম দিকের শেষ প্রান্তে এই লেবুর বন। লেবুর বন থেকে তিন নদীর মোহনা দেখা যায়। এক পাশে সমুদ্র আরেক পাশে তিন নদীর মোহনা, অপর পাশে উপকূলীয় বন, নদীর ওপারে দেখা যায় ফাতরার বন সব মিলিয়ে জায়গা টা অসাধারণ। বাইকে করেই ঘুরে আসতে পারবেন সহজেই। তাছাড়া এখানে কিছু সামুদ্রিক “ফিস-ফ্রাই” ও “কাঁকড়া-ফ্রাই” এর রেস্টুরেন্ট আছে। ঘুরাঘুরি করে বিকেলে বা সন্ধ্যায় লেবুর বনের এখানে মাছ/চিংড়ি/কাঁকড়া ভাজি খেতে খেতে সূর্যাস্ত দেখতে পারেন।

ফাতরার বন

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম প্রান্তে নদী পার হলেই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, এরই নাম ফাতরার বন। ইতিমধ্যে এটি ‘দ্বিতীয় সুন্দরবন ‘ হিসেবে পরিচিতি ও খ্যাতি পেয়েছে । সুন্দরবন সদৃশ এই বনে আছে বন-মোরগ, কাঠ বিড়ালি, বানর আর বিভিন্ন রকম পাখির কুহুতান। এ বনে নেই কোন হিংস্র প্রাণী, কদাচিৎ বুনো শুকরের দেখা মেলে । এখানকার গাছপালা কিছুটা হলুদ বর্ণের, আর বনের মধ্যে দিয়ে পায়ে চলার পথটা অসম্ভব সুন্দর, বন দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একসময়য় সাগরের দিকে বের হওয়া যায়। কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বনে যেতে হলে লাগবে ইঞ্জিন বোট পথে পরবে ডাকাতিয়া নদীর মোহনা (সমুদ্র ও নদী সংযোগস্থল)। সারা দিনের জন্য মাঝারি মানের একটি বোটের ভাড়া ১৫০০- ২০০০টাকা।এডভেঞ্চার প্রিয়দের এখানে আসতেই হবে।

শুঁটকি পল্লী

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম প্রান্তে আছে জেলে পল্লী। এখানে প্রচুর জেলেদের বসবাস। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে চলে মূলত শুঁটকি তৈরির কাজ। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে সৈকতেই শুঁটকি তৈরি করেন জেলেরা। কম দামে ভালো মানের শুঁটকিও কিনতে পাওয়া যায় এখানে।

আলীপুর বন্দর

কুয়াকাটা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার উত্তরে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় একটি মৎস্য ব্যবসা কেন্দ্র আলীপুর। এ বন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রলার বঙ্গোপসাগরে যায় মাছ ধরতে। আলীপুর বন্দর ঘুরে দেখতে পারেন বিভিন্ন রকম সামুদ্রিক মাছের বিশাল আয়োজন। সামুদ্রিক ইলিশের সবথেকে বড় উৎস হচ্ছে এই বন্দর।

বেসরকারি পার্ক

দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েকটি পার্ক ও রিসোর্ট। বাড়তি আনন্দ, বিনোদন ও খাওয়া দাওয়ার জন্য ঘুরে আসতে পারেন এসব পার্কগুলো।

যাতায়াত

  • ঢাকার সায়দাবাদ ও গাবতলি থেকে বেশ কয়েকটি বাস এখন সরাসরি কুয়াকাটা যায়। ঢাকা থেকে “সাকুরা পরিবহন” , ছাড়াও সুরভি, কুয়াকাটা এক্সপ্রেস , বিআরটিসিসহ আরও বেশ কয়েকটি বাস সরাসরি কুয়াকাটায় যায়।
  • আপনি এসব বাসে গেলে আপনাকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২০০ মিটার দূরে নামিয়ে দিবে। ‘সাকুরা’ পরিবহনের বাসটা ভালো সার্ভিস দেয়।
  • ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বাসে যেতে এখন আর ফেরি বিড়ম্বনায় পরতে হয় না, পদ্মা ও লেবুখালী ছাড়া আর কোনও ফেরি নাই।

 

 

  • লঞ্চ অনেক ভালো একটা অপশন, ঢাকার সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ থেকে ৭টা ৩০ এর দিকে লঞ্চ ছেড়ে যায়। লঞ্চে যেতে চাইলে অন্তত একদিন আগেই লঞ্চের টিকিত কেটে রাখা ভাল । গলাচিপার কিছু লঞ্চ ছাড়ে যেগুলো ভায়া পটুয়াখালী হয়ে যায়। ভুলেও উঠবেন না। আগে ছাড়লেও সব ঘাট ধরে সবার পরে পৌঁছাবে।
  • পটুয়াখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে সকাল ৬ টা থেকেই প্রতি ১ ঘণ্টা পর পর কুয়াকাটার উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়। লঞ্চঘাট থেকে বাস স্ট্যান্ড এর ভাড়া ২৫ – ৩০ টাকা । সন্ধ্যা ৫ টার পর আর কোনও বাস পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা যায় না ।